কিটো ডায়েটের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ( Keto Diet).pdf
drtoufiq19711
1,787 views
19 slides
Nov 26, 2024
Slide 1 of 19
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
19
About This Presentation
১. পরিচিতি
কিটো ডায়েট কী?
কিটো ডায়েট (Ketogenic diet) একটি উচ্চ চর্বি, মাঝারি পরিমাণের প্রোটিন এবং কম কার্বোহাইড্রেটযুক্ত ডা...
১. পরিচিতি
কিটো ডায়েট কী?
কিটো ডায়েট (Ketogenic diet) একটি উচ্চ চর্বি, মাঝারি পরিমাণের প্রোটিন এবং কম কার্বোহাইড্রেটযুক্ত ডায়েট পদ্ধতি। এটি শরীরকে কিটোসিস নামক অবস্থায় নিয়ে যেতে সাহায্য করে, যেখানে শরীর গ্লুকোজের পরিবর্তে চর্বি পুড়িয়ে শক্তি উৎপন্ন করে।
উদ্দেশ্য
ওজন কমানো
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ
মানসিক স্বচ্ছতা ও শক্তি বৃদ্ধি
মেটাবলিক স্বাস্থ্য উন্নতি
২. কিটোসিস কি?
কিটোসিস একটি শারীরিক অবস্থা যেখানে শরীর গ্লুকোজের পরিবর্তে ফ্যাটি অ্যাসিড এবং কেটোন বডি পুড়িয়ে শক্তি উৎপন্ন করে।
কম কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের মাধ্যমে শরীরের গ্লুকোজের উৎস সংকুচিত হয়ে যায় এবং শরীর কেটোন উৎপাদন করতে শুরু করে।
৩. কিটো ডায়েটের প্রধান উপাদান
চর্বি: 70-80% (কিছুটা বেশি পরিমাণে চর্বি খাওয়া উচিত)
প্রোটিন: 20-25% (প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করা উচিত, কিন্তু অতিরিক্ত নয়)
কার্বোহাইড্রেট: 5-10% (সাধারণত দৈনিক ২০-৫০ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট)
৪. কিটো ডায়েটের খাদ্য তালিকা
খাওয়া যেতে পারে:
মাংস, মুরগি, মাছ
ডিম
উচ্চ চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত পণ্য (বিশেষত বাটার, চিজ, ক্রিম)
পাতা শাকসবজি (স্পিনাচ, কেল, লেটুস)
বাদাম, বীজ
তেল (অলিভ অয়েল, নারকেল তেল)
অ্যাভোকাডো
এড়িয়ে চলা উচিত:
শর্করা সমৃদ্ধ খাবার (রুটি, পাস্তা, চিনি, স্ন্যাকস)
ফলমূল (বিশেষত মিষ্টি ফল)
মিষ্টি পানীয়, সফট ড্রিঙ্কস
আলু, শর্করা সমৃদ্ধ শাকসবজি
৫. কিটো ডায়েটের উপকারিতা
ওজন কমানো: শরীরের অতিরিক্ত চর্বি পোড়ানো এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা।
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ: টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী হতে পারে।
মানসিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি: মস্তিষ্কের জন্য কেটোন একটি শক্তিশালী শক্তির উৎস।
হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে কিটো ডায়েট হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
৬. কিটো ডায়েটের ঝুঁকি ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
কিটো ফ্লু: ডায়েট পরিবর্তনের প্রথম কয়েক দিনে শরীরে ক্লান্তি, মাথাব্যথা, মুড সুইং ইত্যাদি হতে পারে।
কিডনি ও লিভার সমস্যা: দীর্ঘমেয়াদী কিটো ডায়েট কিডনি বা লিভারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
পুষ্টির ঘাটতি: সঠিকভাবে পরিকল্পনা না করলে ভিটামিন, মিনারেল বা ফাইবারের ঘাটতি হতে পারে।
৭. কিটো ডায়েটের সফল প্রয়োগের জন্য টিপস
পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা: কিটো ডায়েটের কারণে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে যায়।
ইলেকট্রোলাইটসের দিকে খেয়াল রাখা: সোডিয়াম, পটাসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো ইলেকট্রোলাইটসের ভারসাম্য বজায় রাখা।
খাদ্য পরিকল্পনা: ডায়েট বজায় রাখতে পূর্ব পরিকল্পনা তৈরি করা, যাতে খাবারের মধ্যে পর্যাপ্ত চর্বি, প্রোটিন এবং কম কার্বোহাইড্রেট থাকে।
৮. কিটো ডায়েটের বিকল্প
মধ্যবর্তী উপবাস (Intermittent Fasting): এই ডায়েট পদ্ধতিতে খাবার খাওয়ার সময়সীমা সীমিত করা হয়, যা কিটো ডায়েটের সাথে একত্রে ব্যবহৃত হতে পারে।
প্যালিও ডায়েট: প্রাকৃতিক, শর্করা কম খাবার এবং উচ্চ চর্বি ও প্রোটিন যুক্ত খাবার গ্রহণ।
৯. শেষ কথা
কিটো ডায়েট একজন ব্যক্তির শরীরের ধরন, স্বাস্থ্য অবস্থা এবং লক্ষ্য অনুসারে কার্যকর হতে পারে, তবে এটি সঠিকভাবে অনুসরণ করা এবং পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবারের মাধ্যমে পরিকল্পনা করা জরুরি। দীর্ঘমেয়াদী ফলাফলের জন্য ডায়েটের পাশাপাশি শারীরিক ব্যায়াম এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।